সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

সবুজের সমারোহে

নিবিড় বনছায়ার অমোঘ নিস্তব্ধতা ভারি প্রাণবন্ত,
পাতা ঝড়ার অস্পষ্ট শব্দ যেন প্রকৃতির হৃদস্পন্দন,
বিরামহীন নৈঃশব্দে অদ্ভুত শান্তির নিমগ্নতা;
আলিঙ্গনবদ্ধ গাছের সাড়ির ফাঁকে জেগে আছে গলিপথ,
আধো অন্ধকারে, আবছায়া; 
সেই অচেনা পথের বাঁকে খুঁজে পাই আমার ‘আমি’ কে,
হারিয়েছিলাম যাকে চেনা জীবনের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে।

সপ্তাহান্তের ছুটিতে ঢাকার হট্টগোল থেকে বিরাম নিতে ঠিক হোল যাব শ্রীমঙ্গল। সিলেটের কাছাকাছি চা বাগানের দেশ এই জায়গাটি মাত্র ঘন্টা চারেকের রাস্তা গাড়ীতে; অতএব ভোর থাকতেই বেরিয়ে পরা গেলো। বসন্ত সমাগত প্রায়, তবু আঁধার করা কুয়াশায় কয়েক হাত দূরের জিনিষও অদৃশ্য; তাই যাত্রার শুরুটা বেশ রোমহর্ষকই হোল বলতে হয়। এভাবে কুমিল্যা পার হয়ে হাইওয়ের ধারে ‘উজান বাটী’ ধাবায় নিলাম জলখাবারের বিরতি; সুস্বাদু ও পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থায় খাওয়া দাওয়া হোল এলাহি এবং বিরতি একটু বেশীই লম্বা। ধাবার ভেতরেই এক মজাদার খাদি দোকান, তাতে কাঁথা কাজের চাদর, বাটিকের শাড়ী, খদ্দরের পোশাক এসবের সাশ্রয়ী সম্ভার; সেখানে বেশ খানিক শপিং করে ফেললাম। দ্বিতীয় দফার যাত্রায়, পথের দুধারে যতদূর চোখ যায় ঘন সবুজের খেলা দেখতে দেখতে গন্তব্যে পৌঁছানোর ইচ্ছেটাই ক্রমে চলে যাচ্ছিল, মন ভালো করা এই পথের শেষ যেন না হয় এটাই ভাবতে শুরু করেছিলাম কখন আনমনে।
এই পথ যদি না শেষ হয়...
আসতে আসতে প্রকৃতির পরিবর্তিত রূপ দেখে মালুম হোল, পার্বত্য উপত্যকার চা বাগানের দেশে এসে পড়েছি আমরা। দুপাশের ঢালু জমিতে ঘন সবুজ চা বাগান আর মাঝে মাঝে সোনালি রবার গাছের সারি, মাঝখান দিয়ে পাহাড়ী রাস্তা কুয়াশার পাতলা চাদরে মোড়া। একটা দুটো ঘুমন্ত শহরতলী পেরিয়ে পৌছলাম আমাদের গন্তব্য গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টে। রিসেপশনে জানালো আমরা হাজির হয়েছি সময়ের আগেই, ঘর গোছাতে সময় লাগবে কিছুটা। অতএব, লাগেজ জমা করে বেরিয়ে পরলাম রিসোর্টের ভেতরটা ঘুরে দেখতে। বাইরে দিকের কিছুটা অংশে হোটেল কতৃপক্ষ অনাবাসী টুরিস্টদের সময় কাটানোর ছাড়পত্র দেন; সেখানে গিয়ে দেখি নানারঙের এক মজার হাট। পয়লা ফাগুন (বাংলাদেশের প্রেম দিবস) পালন করতে সেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে কমবয়সী ছেলে মেয়ে ঘুরে নয় উড়ে বেড়াচ্ছে বলাই ভালো। আমরা (আমি ও আমার কর্তা) একটু তফাতে কফিশপে বসে তাদের লক্ষ করছি, হঠাৎ দেখি কয়েকজন যুবক হাতে ডান্ডা নিয়ে উদ্ভভ্রান্তের মত কৃত্রিম হ্রদের চারপাশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, মনে মনে শঙ্কিত হলাম, এ আবার কি উৎপাত! ‘আরে ডান্ডা কোথায়, সেলফি স্টিক নিয়ে ঘুরছে’ কর্তা আস্বস্ত করলেন; বাহারে পরিমন্ডলে নিজের ছবি তুলে ফেসবুকে দেবার চাপ তো কম নয়!
সবুজের দেশে

রবার গাছের সাড়ি
হোটেলেও সবুজের ঘেরাটোপ



পথের বাঁকে
টিলার ওপর শান্তির নীড়
পরদিন প্রাতঃরাশ সেরে আমরা গেলাম লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বন দেখতে, কয়েক কিলমিটারের মধ্যেই তার অবস্থান সেখানে বনের অন্দরে সবুজের সমারোহ শান্ত সমাহিত, পায়চলা পথে হাটতে হাটতে চমকে উঠি পাতা ঝরার শিরশিরে শব্দে পাখিদের কলতান কোথাও জাগিয়ে তোলে সুরের লহরী, প্রজাপতির ঝাঁক খেলে বেড়ায় কোথাও আপন খেয়ালে বনের পথে কিছুটা সময় কাটিয়ে আমাদের সারথীর উৎসাহে রওনা দিই মাধবপুর চা বাগানের দিকে একে ওকে জিজ্ঞাসা করে পৌঁছুতে লেগে গেলো খানিকটা সময়, ফলে দেখা হয়ে গেলো কিছূ গ্রামের বসতি ও চা বাগানের জীবনযাত্রা সেদিনটা ছিল সরস্বতী পূজোর পরেরদিন, বাগানের কচিকাচাদের প্যান্ডেল ঘিরে উৎসাহ দেখে মনে পড়ে যাচ্ছিল নিজের ছোটবেলা মাধবপুর বা ন্যাশনাল টি কম্পানীর চা বাগানে আছে পাহাড় ঘেরা ভারি সুন্দর একটি কৃত্রিম হ্রদ, ব্রিটিশ মালিকানা কালীন সময়ে সেটি তৈরী হয়েছিল বাগানে জল সরবরাহের জন্যে সেই লেকের জলে থরে থরে ফুটে আছে দেখলাম বেগুনী রঙের শালুক, আমার অনভ্যস্ত চোখে সে যেন রূপকথার দুধসায়রে নীলপদ্মের বন; যেখানে লুকিয়ে আছেন কুঁচবরণ রাজকন্যে ভিনদেশী রাজপুত্রের অপেক্ষায়      

বনের একপাশে রেললাইন

বনপথে




যেখানে প্রজাপতি, সেখানে আছে সেও
দোয়েল বলে 'টুকি'
বক তপস্বী
দুধসায়র
রাজকন্যে আছেন কি?
মনহরিণী
ফেরার পথে গেলাম শ্রীমঙ্গল বাজারে, সেখানে ‘কুটুমবাড়ি’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় তার নাম মাহাত্যেই খেতে ঢুকলাম। খেতে বসে বুঝলাম নাম খানি একেবারে উপযুক্ত; নাহোক দশ রকম শুধু ভর্তাই আছে তাদের মেনুতে, আদর করে খাওয়ানোর ধরণটাও সত্যিই আন্তরিক। রাজকীয় আহার সেরে পাশেই গোপাল ভাঁড়ের ছবি আঁকা ‘পেটুক’ মিষ্টান্ন ভান্ডারে গিয়ে মধ্যান্ন ভোজের মধুরেণ সমাপয়েত করা গেল। এরপরে আমরা খুঁজতে বেরোলাম বিখ্যাত নীলকন্ঠ টি কেবিন, যেখানে কয়েক দশক ধরে পাওয়া যায় আটরঙা চা। আর্মি ক্যান্টনমেন্ট ছাড়িয়ে মেঠো পথের বাঁক নিয়ে অবশেষে পৌছলাম সেখানে, চারপাশে ঘন সবুজের মাঝে একটা ঘুমন্ত মার্কেট স্কোয়ার; চা বিক্রির থেকে শিল্পকর্মটাই যেখানে বড় কথা। বন্ধ দরজার আড়ালে তৈরী হয় এই চা, যদিও ইদানিং কয়েকটা ইমিটেশন বেরিয়েছে, দুঃখ করে জানালেন দোকানের ক্যাশিয়ার। চা টি খেতে খুব উচ্চমার্গের একথা বলা চলেনা, তবে দেখবার জিনিষ সত্যি। এর পাশেই একটি মনিপুরি শিল্পের দোকান এবং পাশেই মনিপুরি পাড়াতে রয়েছে এরকম আরও অনেক কুটির শিল্প বিক্রয় কেন্দ্র দাম ও গুণমানে যা বেশ আকর্ষণীয়।    


সেই চা শিল্প...

আট রঙা চা

অবশেষে পড়ন্ত বেলায় হোটেলে ফিরে ঘরে ঢুকে দেখি রাখা আছে ভ্যালেন্টাইন্স ডে র উপলক্ষে ছোট্ট একটি হার্ট শেপের কেক। বসন্তের আবির রাঙা বিকেলে, ভালবাসা দিবসের গোলাপী হৃদয় পেয়ে সেদিন মন্দ লাগেনি একথা স্বীকার করতে বাধা নেই।
সব মিলিয়ে দুটো দিন যেন স্বপ্নের ঘোরেই কেটে গেলো, পরদিন সকালে ঢাকার পথে পাড়ি দিতে দিতে মনে হোল ওই সবুজের সমারোহের ছোঁয়া রাঙিয়ে দিয়েছে আমার শহুরে মনটাকেও কখন অজান্তে; আর সেটাই এই ছুটির অভিযানে আমার বড় পাওনা।
***

©1916 ananyapal ALL RIGHTS RESERVED

All photographs are copyrighted by Dilip Pal ©1916 dilippal ALL RIGHTS RESERVED

শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

বেগম বাহার

আসমানী রঙে মিষ্টি পাখিটা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দিচ্ছে তার ডানা,
ডানার ফাঁকে ফাঁকে রুপোলী জোছনা – যেন অভিমানী প্রিয়া;
ঠক্ ঠক্ ঠক্ ঠক্ ছন্দময় আওয়াজ নেশা ধরায় ঝিমোনো দুপুরে,
নিপুণ হাতের সোনারকাঠি ছুঁয়ে যায় ঘুমন্ত আকাশ,
জেগে ওঠে স্বপ্নরাজ্য মায়াজালের সুক্ষ কারুকাজে।
শিল্পীর পেলব আঙুল আত্মমগ্ন টানা পোড়েনের জটিলতায়,
একজোড়া কচিহাত তাঁতের অন্য প্রান্তে পাড় দেয় সুতোয়,
আসমানী রঙে নয়, মন পড়ে আছে তার রঙিন ঘুড়ির পিছে, উন্মুক্ত আকাশে।   

মায়াবী রাতের মধু-জোছনায় ভেসে যাচ্ছে ঘরটা,
ফুলসাজ আর আসমানী বেগমবাহারে নববধূ বেহেস্তের হুরী,
কলকা পাড়ের আঁচল  ঘিরে আছে তার লজ্জানত সুকুমার মুখ,
ভুল হয় বুঝি বা নীলসায়রের মাঝে একখানি শ্বেতপদ্ম -
পাঁপড়ি মেলবে ভোরের শিশিরের ছোঁয়ায়।
সুখস্মৃতি মেখে শাড়ীর ভাঁজে ভাঁজে শুরু হয় নতুন পথচলা,
আলতো আদরে জায়গা পায় জামদানী আলমারির মহার্ঘ কোণায়।

তাঁতঘরের কোণ ঘেঁসে চিলতে দাওয়াটাতে জ্বলছে মাটির উনুন,
ফুটন্ত ভাতের গন্ধে চনমনে বাতাস।
আগুনের তাতে শীর্ণ মুখখানি বিন্দু বিন্দু ঘামে তৈলাক্ত,
কপালে লেপ্টে থাকা চুলে শ্রাবণের ঘনঘটা;
ছেঁড়া শাড়ীর ঘোমটার ফাঁকে মুখখানি আজও মায়া জাগায়।
সুপটু আঙুলের জাদু ছড়িয়ে পড়ে বাহারে জামদানীর অলিতে গলিতে,
একখানা জামরঙা ছাপা, বৌটার জন্যে, – শাড়িটা সারতে হবে তাড়াতাড়ি;
ঠক্ ঠক্ ঠক্ ঠক্ দ্রুত হয় তাঁতের শব্দ, না কি এ শিল্পীর বুকের স্পন্দন!


©1916 ananyapal ALL RIGHTS RESERVED

বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৬

মনে পড়ে?

অচিরাবতীর তীরে, ছোট একখানি গ্রাম,
একপাশে তার ছায়ামাখা তরুবীথি মঞ্জরিত বসন্ত সমাগমে;
কিংশুক রাঙা বনপথে, আমার নিত্য আসা যাওয়া গাগরী ভরনে।
দিনান্তের গোধূলী বেলায়, ধীবর নৌকাখানি ফেরে ঘাটে,
সোনামাখা জলে ছায়া ফেলে তোমার সুঠাম দেহ, হাতে মোহনিয়া বাঁশী,
বাজাও উজানের সুর বাঁশরীর তানে, মুখে স্মিত হাসি।
ক্ষণিকের চকিত চাহনি খুঁজে নেয় একে অপরের পথ চাওয়া,
আকাশের অস্তরাগ ঘন হয় আমার লজ্জানত মুখে,
নিবিড় আবেগ মুগ্ধতা আনে তোমার দুচোখে;
সাক্ষী থাকে মহাকাল।

চৈতী পূরণ্মাসী, মদনোৎসবে মাতোয়ারা কুঞ্জবন,
জাতি, যূথী, কিংশুক, চম্পকে পাতায় পাতায়  বর্ণময় আলাপন,
রাঙা বাস, হরিদ্রায় ছোপানো উত্তরীয়, গলায় চম্পক মালা,অভিসার সাজে –
যুগলে প্রেমিকের দল, ঘুরে ফেরে উৎসুক উচ্ছ্বাসে বন মাঝে।
আমি বসে থাকি ঘাটের কিনারে, কলসী হাতে, চোখে ভীরু চঞ্চলতা,
ধীরে ধীরে সূর্য মিলায় অস্তাচলে, নদীর মর্মরধ্বনি একাকার হয়ে যায় আমার বক্ষ স্পন্দনে,
শূন্য ঘাটে একেলা আমি নিস্ফল অপেক্ষায়, উৎসব দিনে আসবে না সে, মন জানে;
চন্দ্রকিরণে অচিরাবতীর জল তরল অভ্র, আমার দুচোখেও তার রেশ,
অর্থহীন করুণ বিষাদে উঠে আসে দীর্ঘশ্বাস আনমনে,
দখিনা বাতাস ছুঁয়ে যায় কপালের চূর্ণ কেশ আলতো চুম্বনে।
আলগোছে একখানি কুন্দমালিকা ঝরে পড়ে কন্ঠে আমার আচম্বিতে,
চমকে তাকাই পিছে, বাঁশী হাতে রয়েছ দাঁড়িয়ে, কন্দর্পের বেশে,
‘আজি সব অপেক্ষার শেষ’, নিবিড় আলিঙ্গনে জড়িয়ে আমায় বলেছিলে হেসে,
মনে পড়ে?    

যুগান্ত পরে, সেই কুন্দহার আজও আছে রাখা সঙ্গোপনে,
বৈজয়ন্ত সম পরম আদরে, হৃদয়ের এককোণে;
সেদিনের মোহনিয়া তান বাঁশীর সুরে,
আজও কি তোমার মনে পড়ে?

***

©2016 ananyapal ALL RIGHTS RESERVED

সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৬

মন উদাসীর টানে

শীতের ছুটিতে কোলকাতা গেছি কদিনের জন্যে, এক বন্ধু ধরলেন শান্তিনিকেতন চলো পৌষমেলায়। আঁতকে উঠে বললাম, সেখানে তো মানুষের ঢল, থাকার জায়গা পাওয়া দায়। জানা গেলো বন্ধু সম্প্রতি পৌষমেলা প্রাঙ্গনের খুব কাছেই গুরুপল্লীতে একটি মনোরম বাংলো করেছেন; নিমন্ত্রণ সেই বাড়িতে থাকার। অতএব,নির্ভাবনায় বেরিয়ে পড়লাম গাড়ী নিয়ে ২৫শে ডিসেম্বর ভোরে। প্রসঙ্গত, বাংলা ক্যালেন্ডারের ৭ই পৌষ থেকে তিনদিন পৌষমেলা আয়োজিত হয় শান্তিনিকেতনে, যার শুরু হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের আমলে ব্রাহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে। উপলক্ষ যাই হোক, কবিগুরুর উদ্দেশ্য ছিলো এই মেলার মাধ্যমে স্থানীয় প্রান্তিক মানুষদের (প্রধানত সাঁওতাল) হাতের কাজ শহরবাসীর কাছে তুলে ধরা; সেই প্রথার ব্যাতিক্রম হয়নি আজও। 

কোলকাতা থেকে গাড়ীতে শান্তিনিকেতন তিন ঘন্টার পথ, পথে ল্যাংচা মিষ্টির জন্যে খ্যাত শক্তিগড়ে কচুড়ি ও ল্যাংচা সহযোগে শীতের প্রাতরাশ। বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ শান্তিনিকেতন পৌঁছে, সেই চেনা লাল মাটির পথ, ফুলের বাগান ঘেরা ছোট ছোট বাংলোবাড়ী দেখে মনটা জুড়িয়ে গেলো; আশ্রম চত্ত্বরের পুরোন সব গাছ আর তার বাঁধানো বেদীমূল আজও যেন কবিগুরুর স্বপ্নের আশ্রম জীবনেরই আভাষ দেয়, সভ্যতার ছোঁয়ায় আঁচড় লাগেনি তার নির্মলতায়। বন্ধুর বাংলোয় পৌঁছে দেখলাম, ফুলে ফলে ভরা এক স্বর্গরাজ্য, রোদ মাখা তার দক্ষিণের বারান্দাটিতে বসেই কাটিয়ে দেওয়া যায় অনন্তকাল। দুপুরে খাবার উদ্দেশ্যে আমরা গেলাম বিখ্যাত বনলক্ষী রেস্তোরাঁর ঠিক উল্টো দিকে ‘বড়িশালের রান্নাঘরে’। নামের মাহাত্য বজায় রেখে সেখানকার শুক্তো, ডাল, কপির ডালনা, পাবদা মাছ ও গলদা চিংড়ি ছিল একেবারে অমৃতসম। 

খাওয়া দাওয়া সেরে বাড়ী এসে খানিক বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পরলাম পৌষমেলার উদ্দেশ্যে, দূরত্ব সামান্যই তাই পায়ে হেঁটেই যাওয়া গেল। তখনও সন্ধ্যে নামেনি, তবু মানুষের ঢল রাস্তায়, লক্ষ্য সকলেরই মেলা প্রাঙ্গণ; বাহারি সাজে আর চোখে মুখের উত্তেজনায় আবালবৃদ্ধ সেদিন উৎসবের ঘোরে মাতোয়ারা। মেলায় ঢোকার মুখ থেকেই শুরু হয়ে গেছে নানান দোকান, শুরুতেই ছোটদের খেলনা আর মেয়েদের সাজের জিনিষের পশরা সাজিয়ে বসে আছেন স্থানীয় মানুষ; বুঝলাম মেলার মুখ্য ক্রেতা মহিলা ও শিশুরাই। তারপর যত এগোই পরপর অজস্র দোকান, কোথাও বা রকমারি পিঠে, কোথাও তেলেভাজা ও অন্যান্য মুখোরোচক; কোথাও ঘর সাজানোর জিনিষ তো কোথাও রান্নাঘরের রকমারি। পশরা বসেছে কাঁথা ও বাটিক কাজের, আছে খাদির দোকান, শীতের পোশাক, কম্বল, শতরঞ্চিও বাদ নেই। গরম গরম আসকে পিঠে খেতে খেতে গিয়ে দাঁড়ালাম বাউল গানের আসরে, প্রায় শখানেক বাউল সেখানে মঞ্চ আলো করে বসে আছেন, সামনে কাতারে কাতারে শ্রোতা সামিয়ানার নীচে শতরঞ্চিতে বসে, দাঁড়িয়েও গান শুনছেন বহু মানুষ শীতের পরোয়া না করেই। মাথার ওপর পূর্ণচন্দ্র, মঞ্চেও জোছনা মাখামাখি; উদ্দাত্ত কন্ঠের গান, সঙ্গতে শুধু একতারা আর বাঁশী; শুনতে শুনতে রাত কখন গভীর হয়েছে বুঝতেই পারিনি। একসময়, বন্ধুর ডাকে চেতনা ফিরল, বুঝলাম এবার ফেরা উচিৎ। হাতে একরাশ কড়ি কাঠের গয়না, আর মনের ভেতর উদাসী ভাললাগা নিয়ে আস্তানায় ফিরেছিলাম সেদিন। 
নানা রঙের মেলা

হাতের কাজে ব্যস্ত দোকানী

বাউল গানের আসর

পরদিন খোয়াইয়ের সূর্যোদয় যেন নতুন করে বাউলের সুরে বেঁধেদিল মনটাকে; দিনের বেলা আবার ছুটলাম মেলায়সকালের ঝলমলে আলোয় গতরাতের মায়াবী প্রাঙ্গণ যেন চঞ্চলা কিশোরী, আকর্ষণ তারও কিছু কম নয়। এক চা ওয়ালা ভাইকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, তিনি থাকেন অজয়ের পাড়ে; ‘মেলা শেষে কি করবেন?’ আমার প্রশ্নে হেসে জানালেন, ‘যাবো জয়দেবের মেলায়’। বুঝলাম মনটা তাঁরও বাউল, মেলাতেই যার বাস। দুপুর বেলা ফিরে চললাম কোলকাতায়, সারাটা রাস্তা মনের একটা কোনায় লেগে রইলো মন খারাপের সুর, আর একটা কোনা অনেক প্রাপ্তির আনন্দে টইটুম্বুর।
গেরুয়া সকাল

ভোরের আলোয় খোয়াই

***

শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৫

আত্ম বিপণন

শীতের মরসুমে একতলার ফ্ল্যাটের চিলতে বাগানে,
ফুটেছে একটিমাত্র হলদে গোলাপ,
অনেক যত্নে আদরে বেড়ে ওঠা আমার ছাপোষা জীবনের সুখবিলাস;
হালকা ভোরের হাওয়ায় তার দুলে ওঠা,
পড়ন্ত বিকেলের মেটে আলোয় পাঁপড়ির ভাঁজে ভাঁজে জেগে থাকা স্বর্ণাভা,
ছড়িয়ে দেয় এক সুখানুভুতি আমার মনে,
গোপন গর্বে নিজেকে বিশিঢ্ট মনে হয় -
সে আমার, একান্ত আমার, ঈষৎ নুয়ে পড়া ভঙ্গীতে সম্মতি জানায় সে নিজেও।


সেদিন বিকেলে হঠাৎ ই মালিনী এলো আমার এক কামরার ফ্ল্যাটে,
আসার আগে শুধু ছোট্ট একটা মেসেজ, 'আসছি' -
মালিনী অমনই, রূপকথার পরীর মত কখনো সখনো
কয়েক লহমার সৌরভে ভাসিয়ে দিয়ে আবার হারিয়ে যায় পলকেই,
স্বপ্নময় সেই কটি মুহূর্ত জমা হয় আমার মণিকোঠায়।

শীতের আমেজভরা হিমেলী বিকেলে আমার দরজায় মালিনী,
পরণের কাঁচাহলুদ শাড়ীতে আগুনের আভা শরীরের প্রতিটি ভাঁজে,
কোঁকড়া চুলের আলগোছা খোঁপা নিপুণ অন্যমনষ্কতায়
হেলে আছে ঘাড়ের কাছে, সুন্দর মুখখানি প্রসাধনে অপরুপ;
আমি মুগ্ধ বিস্ময়ে বাকরূদ্ধ।


'এলাম দরকারে' -
জড়িয়ে পরেছে কোন বিশ্রী পুলিস কেসে, অসংযমী জীবনযাত্রায়,
আমার সাংবাদিক জীবনের যোজসাজশ কাজে লাগাতে হবে,
এটাই দরকার।
তার অভিমাণী স্বর আর মোহিনী ভঙ্গিমায়,
স্বার্থপর সাহায্যের অভিলাষ অলৌকিক মনে হয় আমার কাছে,
নিঃশর্তে নিজেকে বিকিয়ে দিতে আমি তৎপর।

কথা শেষ হয়, চলে যেতে যেতে দরজার কাছে আবার ঘুরে দাঁড়ায় মালিনী,
'গোলাপটি তো বেশ? ঠিক আমার শাড়ীর রং না?'
মিষ্টি হেসে এগিয়ে যায় সে আমার চিলতে বাগানে,
আমি অভিভূত, বাগান করা স্বার্থক মনে হয় এতদিনে।
'দেবে না আমার খোঁপায় পরিয়ে?' মালিনীর ভ্রূভঙ্গিতে আমি আত্মহারা,
ছুটে গিয়ে বৃন্তচ্যুত করি আমার দিবারাত্রের সঙ্গিনীকে,
মালিনীর খোঁপায় অভিমানে মুখ লোকায় কাঞ্চনবরণী।
গর্বিত পদক্ষেপে চলে যায় স্বপ্নের মেয়ে,
আমি বসে থাকি একা আধো অন্ধকারে আমার বাগানে;
ফুলহীন কাঁটা ঝাড় সাক্ষী হয়ে থাকে আমার বিশ্বাসঘাতকতার।
***


মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৫

কালরাত্রি

রোগাটে ছোটখাট চেহারা, গায়ের রঙটা রোদে-জলে তামাটে,
ভীতু ভীতু মুখখানি থেকে অনাহার কেড়ে নিতে পারেনি লাবন্য এখনো;
বছর দুয়েকের শিশুটিকে নিয়ে ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাতে তার আস্তানা।
দিনভর ছেলে কোলে ভিক্ষে, কখনও বা কাঙালি ভোজন,
একটা পুঁটুলিতে গোছানো সংসার; ছেঁড়া কাঁথা, জলের গেলাস, গোটা দুই শাড়ী।
রাতের বিশ্রাম ওই ফুটপাতেই,
যেখানে সারি সারি ক্লান্ত শরীরের ভীড়ে একটা জায়গা আছে তারও;
ঝিমধরা  সাঁঝবাতির কোণ ঘেঁষে ছেঁড়া কাঁথার ছোট্ট বিছানায়।
মেয়েটা একা, তবে নিঃসঙ্গ নয়; নামহীন পুরুষসঙ্গী জোটে মাঝে সাঝে,
পেট বড় দায়;
ফুটপাতের ঘুমন্ত রাজ্য মহাস্থবির – সমাজ বহির্ভূত আরেক সমাজ,
প্রবৃত্তির নিবৃত্তি সেখানে অপরাধ নয়।

কালীপূজোর রাত, আলোকমালায় ঝলমলে শহর, তারাবাজির আলপনায় আকাশ দীপান্বিতা;
আলো আঁধারির ফুটপাতে শুয়ে আছে একদল ছায়া, বিশ্রামই তাদের একমাত্র বিলাস।
শুয়ে আছে মেয়েটাও, শরীর তার বিবশ আজ ক্লান্তিতে;
জাঁকজমকের বারোয়ারি পূজোর বস্ত্রদানের আয়োজন,
দুপুরে পৌঁছেছিল সেখানে ছেলে কোলে, একখানা কম্বলের  আশায়।
গিয়ে দেখে অসংখ্য মানুষের ঢল, 
বাঁধ ভাঙা কাঙালির ভিড়ে মরীয়া মেয়েটা প্রাণপণে ছুটেছিল দানের মঞ্চে,
ঠেলাঠেলি, প্রতিদ্বন্দ্বী ভিখারীর অশ্রাব্য চিৎকার, ছেলেটার ভয়ার্ত ক্রন্দন,
ছুঁতে পারেনি কোনও কিছুই, আসন্ন শীতে কম্বলের ওম বড় মোহময়।  
জনতার উন্মত্ত ভীড়ে বেসামাল আয়োজন, বন্ধ হয় দানসভা,
কয়েকঘন্টার পাশবিক লড়াই, প্রাপ্তির মধ্যে পুলিশের লাঠির কয়েক ঘা,
কোনক্রমে ফেরে আস্তনায়, উৎসবদিনের অভুক্ত কাঙালিনী।

ছেলেটা কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পরেছে কিছু আগে,
ক্লান্তির নিদ্রা ভিড় করে আসে তারও চোখে;
‘আসবি একবার ওদিকে?’ নেশা জড়ানো স্বরের মৃদু আহবানে সচকিত হয় মেয়েটা।
গলির মোড়ে বহুতল বাড়ির রাতের দ্বাররক্ষী,
স্বজনহীন শহরে মাঝে সাঝের সঙ্গী, উৎসব রাতে তার মনেও রোমাঞ্চ;
‘আজ ছেড়ে দাও বাবু, শরীলটা ভালো নেই’।
‘চল না পয়সা পাবি তো’, প্রথমে অর্থের লোভ, তারপর মিনতি,
নারীসঙ্গের লোভে বাবুটিও আজ মরীয়া, ভিখিরি মেয়েটার অসম্মতি অসহ্য তার কাছে
‘কি রে কানে যাচ্ছে না কথা, কিসের গুমোর এতো?’ চাপা আক্রোশে গজরায় লোকটা,
‘বলেছি তো আজ নয়; ছেলেটাকে ঘুম পাড়িয়েছি বহুকষ্টে, যাও তুমি’,
‘ছেলে? আজ আছড়ে মারব তোর ছেলে!’ ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মত তেড়ে আসে প্রবৃত্তির দাস।
নিমেষে বদলে যায় প্রেক্ষাপট,
‘ছুঁয়ে দেখো খোকাকে আমার!’ থান ইট হাতে রুখে ওঠে শান্ত মেয়েটা,
উন্মত্ত চোখের দৃষ্টি, শাড়ির আঁচল আলুথালু, রুখু খোলাচুলে সে আজ ভীষণা;
পিছুহটে বলিষ্ঠ দানব, ঔদ্ধত্ত নয় চোখেমুখে শুধুই আতঙ্ক।
উৎসবরাত্রি পূর্ণ হয় অবশেষে,
অমানিশার ঘোর অন্ধকারে, জেগে ওঠেন দানবদলনী দেবী মহা কালরাত্রি।


***   

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫

তুলসী বিবাহ

পূব আকাশের ধুসর চাঁদোয়ায় সবে লেগেছে ফাগুনের আবির,
পাতালরাজ্য সুষুপ্তির অন্ধকারে;
দীপের আলোয় জেগে উঠেছে শুধু একটি কক্ষ।
পাতালপুরীর রাজদেবালয়ে পূজোয় বসেছেন রানী বৃন্দা,
সম্মুখে শ্রীবিষ্ণুর স্বর্ণমূর্তি স্মিত আলোয় উদ্ভাসিত।
পরনে পবিত্র কাষায় বস্ত্র, অঙ্গে অলঙ্কার সামান্যই;
কপালে অলকা তিলক,রাজেন্দ্রাণীর সমাহিত রূপ শ্রদ্ধা জাগায়।
লঙ্কাপতির মামাতো ভগ্নি, কালনেমি পুত্রী, পাতালরাজ জলন্ধর মহিষী,
তবু বিষ্ণুসেবিকা এই পরিচয়েই তিনি ধন্যা।
ভক্তিতে একনিষ্ঠ, সতীত্বে উজ্জ্বল নারীশ্রেষ্ঠা সুন্দরী বৃন্দা –
রাক্ষসকুলে জন্মেও নারায়ণ কৃপাধন্যা;
পত্নীর সতীত্ব তেজে বলীয়ান অনার্য জলন্ধর ত্রিভুবনে অপরাজেয়।

পাতাল নৃপতি জলন্ধর মানতে চায়না আর্যকুলের শ্রেষ্ঠত্ব,
জন্মসূত্রে নয়, পুরুষাকারেই অর্জিত যে তাঁর সার্বভৌমত্ব;
অনার্য রাজার স্পর্ধায় বিস্মিত ইন্দ্র, সুরাসুর যুদ্ধ দেখা দেয় অনিবার্যরূপে।
যুদ্ধ অসম, তবু জয়ী হয় বীর জলন্ধর, নিজ বাহুবলে;
পরাজিত, ভীত, দেবকুল আশ্রয়প্রার্থী কৈলাসধামে, মহাদেব ভরসা তাঁদের।
যুদ্ধ শুরু হয় অসম্ভবের, দিবারাত্রি রনডঙ্কায় দশদিক প্রকম্পিত;
অটল নিজ বিশ্বাসে বৃন্দা সুন্দরী শুধু অবিচলিত –
বিষ্ণু আশীসে সে যে চিরায়ুষ্মতী।

উজ্জ্বল মশাল জ্বলে চতুষ্কোনে, দীপদন্ডে সহস্র মঙ্গলদীপ,
রাত্রি মধ্যযাম গত, তবু সুরলিত বিষ্ণুমন্ত্রে মুখরিত পুজাগৃহ;
অখন্ড উপাসনারত সতী বৃন্দা, বিজয়ী স্বামীর আগমনেই করবে আসন ত্যাগ।
‘প্রিয়ে’ অতিপরিচিত স্নেহ সম্বোধনে চোখ মেলে রানী, স্মিত হাসি জাগে ওষ্ঠাধরে,
সম্মুখে বিজয়ী জলন্ধর দুবাহু বাড়িয়ে, দীর্ঘ বিচ্ছেদ শেষে চোখদুটি মিলনে উন্মুখ।
প্রিয় বাহুপাশে কয়েক মুহূর্ত অনন্তকাল সম, ওষ্ঠাধর পুলকিত গভীর চুম্বনে,
আসঙ্গসুখে মুদে আসে আঁখি, অনুরাগে রাঙা মুখ প্রস্ফুট গোলাপ,
‘তুমি সুখী প্রিয়ে?’ গভীর প্রণয়ে চোখ মেলে চায় বৃন্দা স্বামী মুখপানে।
আচমকা গর্জায় মেঘ ডমরু নিনাদে, নিভে যায় মঙ্গলদীপ সহস্র বাতিদানে,
ক্ষনপ্রভা বিজুরী আলোকে আলিঙ্গনপাশে বেঁধেছে সতীকে কে ও?
‘বিষ্ণুদেব!’ আর্ত চিৎকারে কেঁদে ওঠে পরম সাধিকা,
জলন্ধর শির ছিন্ন হয় ত্রিশূল আঘাতে কৈলাস ধামে;
নিষ্ঠুর উল্লাসে মাতে স্বর্গলোক, জয়ী হয় দেবত্ব নারীত্বের চরম অপমানে।

‘তোমাকে পূজেছি চিরকাল কায়মনে, এই তার পুরষ্কার?’
পাষাণমূর্তি সম বৃন্দার আক্ষেপ বিচলিত করে পুরুষশ্রেষ্ঠকে,
‘জগৎ কল্যাণ হেতু দায়বদ্ধ আমি ক্ষমা কর দেবী’ -
আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্লজ্জ প্রচেষ্টায় বিড়ম্বিত স্বয়ং নারায়ণ।
‘আমি সামান্যা রাক্ষসী, দেবী নই, ক্ষমায় অপারগ,
পাষাণ-হৃদয় হরি, আভিশাপে মোর পাষাণে আবদ্ধ হবে তুমি,
যে কলঙ্কের কালি মাখালে আমায় আজি, সেই ঘোর কালো লাগুক তোমার অঙ্গে,
বিরহ, লাঞ্ছনা যত দিয়েছ আমায়, পাবে শতগুণে তুমি মানব জনমে’।
মশাল আলোকে যজ্ঞাগ্নি জ্বেলে, ঝাঁপ দেয় লাঞ্ছিতা বিরহিণী,
সাক্ষী থাকে দেব চরাচর।

বৃন্দার চিতাভস্ম জ্বালায় তুষাগ্নি মহেশ্বরের কোমল অন্তরে,
পবিত্র তুলসী বৃক্ষে পায় প্রাণ সতী বৃন্দা তাঁরই আশীষে;
‘কলঙ্কিনী নয়,বিষ্ণুপ্রিয়া হবে তুমি তুলসী সুন্দরী’, জানান বিষ্ণু অতঃপর।    
শালিগ্রাম শিলা রূপী নারায়ণ সাথে তুলসী বিবাহ ঘটে কার্ত্তিক একাদশীতে,
নারীত্বের অমর্যাদাপাশে বাঁধা পরেছেন পুরুষোত্তম চিরতরে,
তাই কি আজও সম্বৎসর,ঘটে তাঁর কলঙ্কমোচন তুলসী বিবাহে?

***

@অনন্যা পাল ২০১৫